গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছে ত্যাগী কর্মীরা
খবরের সময় ডেস্ক:
গা জীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরনের অডিও কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার পর সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া কথোপকথনে মিরন দাবি করেন, দলীয় নেতৃত্ব পেতে হলে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ‘হৃদয়ের লোক’ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরে থেকে নেতা হওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়া, তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি তার নিজস্ব গ্রুপের কাজ করেন এবং সেই বলয়ের বাইরের কাউকে নেতা বানানোর সম্ভব না । অপরপক্ষ থেকে কারাবরণ, হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে তিনি একই সুরে বলেন, নিজস্ব গ্রুপের বাইরে থেকে কাউকে বিবেচনায় আনার সুযোগ নেই।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর থেকেই অসন্তোষ দানা বাঁধে। বিভিন্ন থানা ও কলেজ কমিটির নেতারা একের পর এক পদত্যাগ করায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট চরমে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তৎকালীন সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল একাধিকবার বৈঠক করেও বিদ্রোহ দমন করতে ব্যর্থ হন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মিরনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ বহু আগে থেকেই রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি অন্যান্য নেতাদের সাথে একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকারের দমনপীড়নের শিকার না হওয়া এবং কখনোই হামলা-মামলার মুখে না পড়ার কারণ হিসেবে অনেকেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।
দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে গ্রুপকেন্দ্রিক রাজনীতি করার ঘোষণায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে যারা দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন, তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, ছাত্রদল হলো আন্দোলন-সংগ্রামের সংগঠন, যেখানে আত্মত্যাগের মূল্য থাকা উচিত। কিন্তু মিরনের মতো বিতর্কিত নেতারা দলের নেতৃত্বে থাকলে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন সম্ভব নয়। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলে গ্রুপিং ও বলয়ভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটে।এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব,প্রতিবেদককে বলেন অডিও ক্লিপ আমরা পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।